মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদান
মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদান

মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদান

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদান রাখার জন্য কিংবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার  মুক্তিযোদ্ধাদের কিংবা যারা অবদান রেখেছে তাদেরকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করেন। 

বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নাগরিক এই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিশেষ অবদান রেখেছে যা আমরা  শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করব। 

 ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ডঃ 

মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদান এর কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড এর কথা। তার জন্ম নেদারল্যান্ড। অপারেশন সার্চলাইট এর সময় তিনি লুকিয়ে তার রাত-বিরাতে ভয়াবহতার ছবি তোলেন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেরণ করেন এমনকি আগস্ট মাসের দিকে তিনি  টঙ্গীতে অবস্থিত বাটা কোম্পানির ভিতর গেরিলাদের জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন এই বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে।  তিনি একমাত্র বিদেশী নাগরিক কে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়। 

 ফাদার ভিডিও ভেরেনজিঃ 

রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক ভেরেনজি তিনি ছিলেন ইতালির নাগরিক।  মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যশোরের একটি গির্জায় কর্মরত ছিলেন।  তিনি নিরস্ত্র ও নিরপরাধ বাঙ্গালীদের তার কর্মস্থল অর্থাৎ গির্জায় আশ্রয় দেন।  এই অভিযোগে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী 4 এপ্রিল গুলি করে হত্যা করেন।

জুলিয়ান ফ্রান্সিসঃ

 যুক্তরাজ্যের নাগরিক জুলিয়াস ফ্রান্সিস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তিনি অক্সফাম ত্রান কার্যক্রমের  জন্য কলকাতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরত ছিলেন । “টেস্টিমনি অব সিক্সটি অন দ্য ক্রাইসিস ইন বেঙ্গল“ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্বন্ধে লেখা একটি বই।

এটি প্রকাশ করে অক্সফাম কর্তৃপক্ষ ২১  অক্টোবর ১৯৭১। এই বইটি মূলত  নিরীহ বাঙ্গালীদের মধ্য থেকে ৬০ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার এর সংকলন ।  যাতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও শরণার্থীদের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে।  মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য জুলিয়ান ফ্রান্সিস কে মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রী সম্মাননা” দেওয়া হয়। 

অ্যালেন গিন্সবার্গ 

মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ । ১৯৭১ সালে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিল। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কলকাতা থেকে যশোরের সীমান্ত এলাকার শরণার্থী শিবিরে আসে । এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে শরণার্থীদের দুর্ভোগ দুর্দশা প্রত্যক্ষভাবে প্রদর্শন করে। এবং দেশে ফিরে যায়।  শরণার্থীদের দুর্ভোগ দুর্দশার কথা তার একটি কবিতার মাধ্যমে নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশ করেন। তার এই কবিতাটি হল বিখ্যাত “সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড”। 

আর্চার কে ব্লাড 

তিনি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল। তিনি লেখালেখি পছন্দ করতেন । 71 সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা বর্ণনা করি তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন ।  তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ টির নাম – “দ্য ক্রুয়েল বার্থ অফ বাংলাদেশ” । 

বব ডিলান

বব ডিলান এর পূর্ণনাম রবার্ট এলেন জিমারম্যান । তিনি ছিলেন মার্কিন গায়ক, গীতিকার, এবং সুরকার । তিনি লোকগীতি, রক, ব্লুজ সংগীত পরিবেশন করতেন। তিনি একাডেমী পুরস্কার ২০০০, নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ পান । পৃথিবীতে সর্বপ্রথম তিনি গীতিকার হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। 

This Post Has 3 Comments

  1. Salma Sultana

    Store Hours of General knowledge

Leave a Reply